দিনাজপুরের মোহনপুর রাবারড্যাম ফুটো, বিপাকে কৃষক, সেচ সংকটে ৬ হাজার হেক্টর জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১০:৩৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১০:৩৭

ছবি সমসাময়িক
পি কে রায়, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি।। দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার সাঁইতাড়া ও সদর উপজেলার মোহনপুর আত্রাই নদীতে দুটি রাবারড্যাম আছে। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে মোহনপুরের রাবারড্যামটি অকেজো হয়েছে। দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার জয়পুর, ভিয়াইল, দল্লা, বানিয়াখাড়ি, সুরইল, মহলবাড়ী এলাকায় জমির পাশের কাঁকড়া নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁধ দিয়ে পানি আঁটকে রাখার চেষ্টা করছিলেন ১০০ জনের মতো কৃষক। সেই পানি পরে পাইপের মাধ্যমে নেন বোরো খেতে। নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় এই বিশেষ ব্যবস্থা করেন তাঁরা। সেচের কাজে ব্যস্ত কৃষকেরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখতে চিরিরবন্দরের সাঁইতাড়া ও সদরের মোহনপুর কাঁকড়া নদীতে দুটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। সাঁইতাড়া এলাকার রাবারড্যামটি সচল থাকলেও চলতি মৌসুমে মোহনপুরের রাবারড্যামটি অকেজো হয়েছে। এতেই বোরো খেতে সেচ দিতে বিড়ম্বনায় পরেছেন তাঁরা। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১ঘটিকার দিকে কাঁকড়া নদীর সাঁইতাড়া, ভিয়াইল, দল্লা, মোহনপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায় নদীর ধারে প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চকচকে বালুচর। ২০০ মিটার প্রস্থ সর্পিল নদীতে হালকা স্রোত বয়ে যাচ্ছে। কিছু দূর পরপর কৃষকেরা নালার পানি পাইপের মাধ্যমে বোরো খেতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কাঁকড়া নদীর ১২ কিলোমিটার জায়গার উভয় পাড়ে জয়পুর, ভিয়াইল , সুরইল, পশ্চিম ভিয়াইল, রঘুনাথপুর, ছোট বাউল, লক্ষ্মীপুর এলাকা। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোহনপুর রাবারড্যামের আওতায় থাকা এসব এলাকার প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে ইরিবোরো ধানের আবাদ হয়, যেখানে সেচের অন্যতম মাধ্যম নদীর পানি। দুই ড্যামের মাঝামাঝি রঘুনাথপুর বালুমহাল থেকে বালু তোলার সুবিধার জন্য ইজারাদার সিমেন্টের চোঙা ও বাঁশ দিয়ে লম্বালম্বি রাস্তা তৈরি করেছেন নদীতে। ইজারার শর্ত ভেঙে ভেকু মেশিনে বালু উত্তোলন করে ড্রামট্রাকে পরিবহন করা হচ্ছে। আড়াআড়িভাবে বালু জমে নালার মতো নদীর পানিপ্রবাহের গতিপথও বন্ধ হয়েছে। নদীর উভয় পাড়ে বোরো খেতে পানি দিতে কৃষকদের আছে দেড় শতাধিক স্কিম। ১০-১৫ জন কৃষক একত্রে বোরো মৌসুমে সর্বনিম্ন দেড় হাজার টাকায় নদী থেকে সেচসুবিধা নেন। তাঁদেরই একজন জয়পুর ভিয়াইল এলাকার তাপস রায়। তাঁর এলাকা মোহনপুর রাবারড্যামের আওতায়। তাপস রায় বলেন, ‘বেশ কয়বার ড্যামের লোকের সাথোত যোগাযোগ করোছি। কাহো গুরুত্ব না দেয়। তাও কিছু পানি পাওয়া যাইত, কিন্তু রঘুনাথপুরে বালুমহালের বালু জমি (জমে) থাকায় পানি আসোছে না"। তাপস বলেন, ‘ডিজেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ি গেইছে। বোরিংয়ের পানি দিয়া পরতা হবে নাই"। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন কৃষক বলেন, "মোহনপুরের রাবারড্যামটি বন্ধ থাকায় সুবিধা হচ্ছে বালুমহাল ইজারাদারের। আর পানি না থাকায় মাছ ধরতে পারছেন না জলমহালের ইজারাদার। এ জন্য রাবারড্যামের লোকজনের সঙ্গে বালুমহালের ইজারাদারেরা যোগসাজশ করে ড্যাম মেরামতে গুরুত্ব দিচ্ছেন না"। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় বোরো ও রবিশস্য চাষে মোহনপুর রাবার ড্যামটি পরিচালনার জন্য গঠন করা হয় পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি। প্রায় ৯০০ হেক্টর জমি সমিতির মাধ্যমে সেচের আওতায় রয়েছে। তবে সদর উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, "সমিতির মাধ্যমে ড্যামটির কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও একাধিকবার আলোচনা করেও কোনো ফল হয়নি। উল্টো কতিপয় ব্যক্তি স্থানীয় কৃষকদের একত্র করে সমিতির সদস্য না হয়ে নিজেরাই স্কিমের মাধ্যমে পানি সেচের ব্যবসা শুরু করেছেন। সমস্যার সমাধানে ১০ ফেব্রুয়ারি একটি আলোচনা সভা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল"। জানতে চাইলে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আবদুল আজিজ বলেন, "ড্যামটির রাবার ফুটো হয়েছে। মেরামত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে"।


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: