মনিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা-মা আহত ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Md.Woliar Rahman | প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬ ১৯:৪১

Md.Woliar Rahman
প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬ ১৯:৪১

ছবি- দৈনিক সমসাময়িক নিউজ।

মোঃ শাহ্ জালাল॥ যশোরের মনিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা-মাসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে এর মধ্যে মেয়ের অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসাপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে নয় জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে পুলিশ আটক করতে পারেনি।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের খড়িঞ্চি গ্রামের মৃত আব্দুল্লাহ গাজীর ছেলে মুজার আলী গাজী প্রায় ৫০ বছর আগে ১৬ শতক জমি কিনে বাড়ি নির্মানের পর পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে প্রতিবেশী বজলু গাজীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ও রাজ আলী গতবছর থেকে ওই জমির একটি অংশ শরিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে মুজার আলীর সাথে তাদের বিবাদ শুরু হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য(৪নং ওয়ার্ড) লিটন হোসেন জানান, ক্রয়সূত্রে ওই ১৬ শতক জমির প্রকৃত মালিক মুজার আলী। কিন্তু প্রতিবেশী রাজ আলী ও তার ভাই আব্দুল রাজ্জাক ওই জমির একটি অংশ শরিকানা হিসেবে দাবি করছেন। স্থানীয়ভাবে এ ব্যাপারে কয়েকবার শালিসি বৈঠকে হলেও তারা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়।
অভিযোগ রয়েছে সোমবার দুপুরে আব্দুর রাজ্জাক, রাজ আলী ও তার ছেলে নয়নের নেতৃত্বে এলাকার চিহ্নিত ৯/১০ জন যুবক ধারালো দা, লোহার রড ও লাটিসোটা নিয়ে মুজার আলীর বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা প্রথমে মুজার আলীকে মারপিট শুরু করলে স্ত্রী রাশিদা বেগম ও মেয়ে ফুলসুরাত খাতুন বাঁধা দেয়। মুজার আলী অভিযোগ করেন, বাঁধা দেওয়ার কারনে সন্ত্রাসীরা তার স্ত্রী রাশিদা খাতুন ও মেয়ে ফুলসুরাতকে বেধড়ক মারপিট করে। এতে ফুলসুরাতের মাথা ফেটে যায় ও একটি হাত ভেঙ্গে যায়। এক পর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে মুজার আলী ও তার স্ত্রীকে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ দিকে ফুলসুরাতের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার বিকেলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসাপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এ ঘটনায় মুজার আলী গাজী বাদি হয়ে রাজ আলী, আব্দুর রাজ্জাক, নয়ন হোসেন, মশিয়ার রহমানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আবু সাঈদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ফলে পরবর্তি আইনগত(মামলা)ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।