মনিরামপুর এখন মাদক-সন্ত্রাসীর অভয়ারণ্য চুরি ছিনতাই চাঁদাবাজি নিত্যদিনের ঘটনা নীরব প্রশাসন

Md.Rashed | প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২৬ ২৩:১৮

Md.Rashed
প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২৬ ২৩:১৮

ফাইল ফটো

মনিরামপুর(যশোর)॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের জয়পুর এলাকা এখন মাদক-সন্ত্রাসীর অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। মাদক সেবনকারীদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তার ওপর প্রতিদিন চুরি ছিনতাই চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটেই চলেছে। অভিযোগ রয়েছে এ ব্যাপারে পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোন প্রতিকার হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে পুলিশের নীরব ভূমিকায় জয়পুর এখন মাদক-সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে।

জানাযায়, উপজেলার বৃহত্তম গ্রাম জয়পুর মূলত: বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত। বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে নানা কারনে জয়পুর গ্রামটি ছিল দেশের মধ্যে আলোচিত। বিশেষ করে ২০১৪ সালের একতরফা জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিরোধী আন্দোলনে জয়পুর এলাকা ছিল আলোচিত। ফলে এ গ্রামের বিএনপি-জামায়াতের প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী সমর্থকের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে অন্তত: ১৫ টি নাশকতার মামলা করেন। ফলে গ্রেফতার অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে আনিচুর রহমান নামে বিএনপির এক কর্মী নিহত হয়। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রনক্ষেত্রে পরিনত হয়। বেশ কয়েকটি বসত বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নি সংযোগের ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহযোগীতায় পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের শতাধিক নেতাকর্মী আটক করে। পরবর্তিতে পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হয় বিএনপি কর্মী বজলুর রহমান আবু সাঈদ। পরে পুলিশের সাড়াশি অভিযানের কারনে জয়পুর পুরুষ শুন্য হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের পলাতক জীবনের অবসান হয়।
তবে ইতিমধ্যে জয়পুর গ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। মাদক সেবনকারীদের অবাধ বিচরনে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় গাজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক। তার ওপর প্রতিদিন চুরি ছিনতাই চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটেই চলেছে। অভিযোগ রয়েছে জামতলায় মাদক বিক্রি করেন চা বিক্রেতা হাসান, আলমগীর, নজরুল, সিনবাদ ও রিয়াজুল। ফলে এলাকার সেবনকারী যুবকরা সহজেই নাগালের হাতে পেয়ে থাকেন গাজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে ২৬ জুন রাত আটটার দিকে জয়পুর জামতলা মোড়ে স্থানীয় ডিস ব্যবসায়ী মুন্নার কাছে এলাকার বখাটে খ্যাত সিনবাদ ও রিয়াজুলের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু চাঁদা আদায়ে ব্যর্থ হওয়াই সন্ত্রাসীরা মুন্নাকে বেধড়ক মারপিটে যখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এর আগে ২৪ জুন রাত ১০ টার দিকে হাবিবুর রহমানের ছেলে আকবর আলীকে হাতুড়িপেটা করে তার কাছ থেকে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনায় আকবর আলী অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। জানাগেছে সন্ত্রাসীদের চাপের মুখে আকবর আলী অভিযোগটি থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেন। এ ব্যাপারে আকবর আলী কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। গতমাসে ছিনতাই হয় আব্দুল কাদেরের কাছ থেকে তার ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি। গুপের বাজারের মুদিদোকানী ওলিয়ার রহমান ও রমজানের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে মিজানুর রহমান ও তার লোকজন। অভিযোগ রয়েছে চাঁদা না দেওয়ায় তাদেরকেও মারপিট করা হয়। তবে এ ঘটনায় কোন অভিযোগ করতে সাহসি পায়নি ভূক্তভোগী ওলিয়ার ও রমজান। মোট কথায় এসব মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাসীদের হাতে এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছে। জয়পুরে অবস্থিত উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারি অধ্যাপক ফজলুল হক বলেন, মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে বার বার বলা সত্ত্বেও কোন প্রতিকার হয়নি। ফলে সন্ত্রাসীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, গোটা কয়েক যুবকের কাছে এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছে। অথচ প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, মাদক বিক্রেতা এবং চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমার কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কোন ভূমিকা নেননি। মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আবু সাঈদ জানান, জয়পুরে ইতিমধ্যে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।