যশোরে যুবলীগ নেতা ইয়াসিনকে কুপিয়ে হত্যা: দুই খুনি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৫:১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৫:১৩

ছবি সমসাময়িক
জেমস রহিম রানা।। যশোরে ইয়াসিন আরাফাত ওরফে হুজুর ইয়াসিন (২৮) নামে এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছে। প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা তাকে উপর্যুপোরি কুপিয়ে হত্যা করে। বুধবার রাত ৮টার দিকে শহরের বেজপাড়া চোপদারপাড়ার ব্রাদার্স ক্লাবে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াসিন মাওলানা মনিরুজ্জামান মনিরের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার তোরাব আলীর ছেলে রানা ও রুবেলকে আটক করা হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে খুলনার শিরোমনী এলাকার একটি ক্লিনিক থেকে তাদেরকে আটক করা পুলিশ।আহত অবস্থায় তাদেরকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়াস্থ রেললাইন সংলগ্ন ব্রাদার্স ক্লাব ঘরের ভেতর ইয়াসিনকে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। আজ লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুপুরে লাশ নিয়ে যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েলের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়। এসময় তারা দ্রুত সময়ে ঘাতকদের ফাসিঁ দাবি করেন। স্থানীয়রা জানান, বেজপাড়া আকবরের মোড় এলাকার মাওলানা মনিরুজ্জামান ওরফে মনির মাওলানার ছেলে ছেলে হুজুর ইয়াসিন বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে শংকরপুর চোপদারপাড়াস্থ রেললাইন সংলগ্ন ব্রাদার্স ক্লাবের ভেতর কয়েকজন সঙ্গীর সাথে খেলা করছিলেন। এ সময় কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই একদল সন্ত্রাসী সেখানে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। সঙ্গীরা তাকে রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। রাজিব নামে একজন সঙ্গী চেয়ার ছুঁড়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধের চেষ্টা চালান। পরে যশোর সদর হাসপাতালে তিনি মারা যান। নিহতের স্ত্রী শাহান আক্তার নিশা বলেন, ক্লাবে ক্যারাম খেলা অবস্থায় মাঠপাড়ার সুমন, স্বর্ণকার রানা, রুবেল, ধনী এরা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। আমার স্বামী মাদকের বিরোধিতা করায় ওরা হত্যা করলো। স্বামী হত্যার বিচার চাই। নিহতের পিতা মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার সময় তিনি মসজিদে ছিলেন। ছেলে ইয়াসিনকে কুপিয়ে জখমের খবর শুনে হাসপাতালে আসেন। এরপর জানতে পারেন তার ছেলে মারা গেছে। নিহতের শ্বশুর শামীম আহমেদ মানুয়া অভিযোগ করেন, একই এলাকার স্বর্ণকার রানা ও তার ভাই রুবেলসহ একদল সন্ত্রাসী ক্লাবঘরের ভেতর ঢুকে ইয়াসিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবদুর রশিদ জানান, বৃহস্পতিবার ইয়াসিনের লাশের ময়না তদন্ত সমপন্ন হয়েছে। এরপর তার স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে যশোর পুলিশের মুখপাত্র ডিবি ওসি রুপন কুমার সরকার জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের বেজপাড়ার চোপদারপাড়া এলাকায় ব্রাদার্স ক্লাবের মধ্যে ঢুকে সন্ত্রাসীরা ইয়াসিন আরাফাতকে এলোপাতাড়ি কোপ দেয় রুবেল। এক পর্যায়ে তার হাত থেকে দা পড়ে যায়। তখন ইয়াসিনের লোকজন ওই দা দিয়ে উল্টো রুবেল ও রানাকে আঘাত করে। এতে রানার কপাল ও রুবেলের পিঠে লাগে। এতে তারাও জখম হন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর জড়িতদের আটকে অভিযান নামে পুলিশ। এক পর্যায়ে তারা সোর্সের মাধ্যমে খবর পায় সন্দেহভাজন রুবেল ও রানা খুলনার শিরোমনির লিন্ডা প্রাইভেট হাসপাতালে অবস্থান করে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে রুবেল ও রানাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।তাদের হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় রাখা হয়েছে। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক সালাউদ্দিন বাবু জানান, রাত ৮ টা ২০ মিনিটে ইয়াসিনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তার ঘাড়ে ও মাথার পিছন পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। র‌্যাব ৬ যশোর ক্যাম্পের কমান্ডিং অফিসার লে, কমান্ডার নাজিউর রহমান জানান, ইয়াসিন খূনের সাথে জড়ত সন্দেহে আমরা ৫ জনকে হেফাজতে নিয়েছি। যাচাই বাছাই শেষে জড়িতদের আটক দেখানো হবে।


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: