মোঃ শাহ্ জালাল।। যশোরের মনিরামপুরে একেতো ভবদহের জলাবদ্ধতা তার ওপর অবিরাম বৃষ্টিতে ৩৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠায় পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। ইতিমধ্যে পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাটগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সুজাতপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভূলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্যত্র বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠদান করা হচ্ছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়,ভবদহের জলবদ্ধতার নিরসন না হবার কারনে মনিরামপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধতা থাকে। ইউনিয়ন সমুহ হলো কুলটিয়া, মনোহরপুর, হরিদাসকাটি, ঢাকুরিয়া, নেহালপুর ও দূর্বাডাঙ্গা। তার ওপর সম্প্রতি অবিরাম বর্ষনে এ ছয় ইউনিয়নের মধ্যে সব চেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে কুলটিয়া, হরিদাসকাটি ও দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মোজাফ্ফর হোসেন জানান, অবিরাম বৃষ্টিপাতে ভবদহের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে ১৬ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ এবং শ্রেনি কক্ষে পানি উঠেছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অন্যস্থানে বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠদান করা হচ্ছে। অন্য প্রতিষ্ঠান সমুহের মাঠ ও বারান্দায় পানি উঠেছে। তার পরও ওই সব প্রতিষ্ঠানে কষ্ট করে হলেও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো হাটগাছা মাধ্যামক বিদ্যালয়, কুলটিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, পোড়াডাঙ্গা আরসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাগডাঙ্গা দহাকুলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিএইচ এমএস নিন্ম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, এজিএম নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লখাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নেবুগাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁচবাড়িয়া পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁচকাটিয়া পাঁচবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হরিনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হরিনা ম্যাধমিক বিদ্যালয়, কুশখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভবানীপুর রামোত্তম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রজিপুর কেএমএস মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চান্দুয়া সমসকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
অপরদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) শামছুল আলম জানান, অতিবর্ষনে ভবদহ সংলগ্ন ১৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। এর মধ্যে ভূলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুজাতপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আসাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বয়ারখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ, বারান্দা এমনকি শ্রেণিকক্ষে হাটুসমান পানি থাকায় শিক্ষার্থীদের অন্যত্র বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠদান করা হচ্ছে। অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ, বারান্দায় পানি থাকলেও শ্রেণিকক্ষে এখনও পাঠদান চলেছে। এগুলো হলো বিলপাড়িয়ালী ডাঙ্গামহিষদীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লখাইডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামীনিডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহিরঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনোহরপুর খন্দকারবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পদ্মনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাজেকুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিগঙ্গা কুচলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচবাড়িয়া পাঁচকাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,সমসকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজিরগ্রাম পাঁচবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাটড়াছা সুজাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
রোববার সরেজমিন গিয়ে ভূক্তভোগীদের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, প্রায় দুই মাস যাবত হরিদাসকাটি উইনিয়নের পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিতে পানি রয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠ তো দুরের কথা শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও কোমর সমান পানি। প্রধান শিক্ষক তুলসী দাস মল্লিক জানান, প্রয় দুই মাস ধরে বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণী কক্ষে কোমর সমান পানি থাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে হাজিরহাট বাজারে একটি ভবনের দুইতলা ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠদান করা হচ্ছে। আবার একই চিত্র চোখে পড়ে ভূলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ বিদ্যালয়ের প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটির ওপর এখন হাটু পানি। আর শ্রেণি কক্ষের অবস্থা তো আরো নাজুক। প্রধান শিক্ষক নিত্য বিশ্বাস জানান, দুরে একটি বাড়িতে বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন জানান, ভবদহ সংলগ্ন হওয়া তার ওপর অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারনে বসতবাড়ি ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পানি নেমে গেলে প্রতিষ্ঠান সমুহ সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।