
মণিরামপুর প্রতিনিধি।। মণিরামপুর শ্যামকুড় ইউনিয়নের বুজতলা ওমর ইবনে কাত্তাব (রা) মাদ্রাসা হেফজ খানার ছাত্র আরিফুল ইসলাম (১৪) শিক্ষকের পিটুনিতে অন্ধত্ববরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী উপজেলা ঝাঁপা ইউনিয়নের জোকা গ্রামের আয়ুব আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম (১৪) কে শিক্ষক হাফেজ মোঃ হাফিজুর রহমান লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানোর সময় চোখে আঘাত লাগে। এতে আরিফুল ইসলাম এর বাম চোখ গুরুতর জখম হয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আরিফুলকে কেশবপুর উপজেলার একটি চোখের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
রুগীর অবস্থা মারাত্মক খারাপ দেখে ডাক্তার যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করেন। যশোর নিয়ে গেলে চোখের অবস্থা দেখে সদর হাসপাতালের ডাক্তার দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন দ্রুত চোখের টিটমেন্ট না হলে চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কোন উপায় অন্ত না পেয়ে অসহায় পিতা দ্রুত ছেলের চিকিৎসার জন্য বিমান যোগে ঢাকা ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। ভর্তির পরদিন অপারেশন করা হয় চোখের। দীর্ঘ অপারেশন শেষে ডাক্তার জানান চোখের মনিতে ১২টা সেলাই দিতে হয়েছে। তবে চোখের অবস্থা বেশি ভালোনা হয়তো সুস্থ হলেও ঝাপসা ঝাপসা দেখতে পারে নাও পারে।
বিষয় টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানাননি হলে সরেজমিনে গণমাধ্যম কর্মীরা যান ঐ বুজতলা ওমর ইবনে কাত্তাব (রা) হেফজ খানায়। প্রথমে মাদ্রাসায় সাংবাদিক প্রবেশে বাঁধা দিলে প্রতিষ্ঠা সদস্য কে ফোন করে প্রবেশের অনুমতি মেলে। বিশেষ সাক্ষাতকারে মাদ্রাসা কৃতপক্ষ বলেন আরিফুল ইসলাম চটে পা বেঁধে পড়ে যায়। এতেকরে চশমার গ্লাসের আঘাতে চোখে আঘাত লাগে। সাক্ষাতের সময় একেক জন শিক্ষক একেক রকমের কথা বলতে শুরু করে।
এরপর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী আরিফুলের এক সহপাঠী ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন আমি বাইরে গিয়েছিলাম এসে দেখি আরিফুর আমার পাশের সিটে নেয়, কিছুক্ষণ পরে দেখি আরিফুলের হাতে রক্ত লেগে আছে। এর কিছুক্ষণ পর মাদ্রাসার হুজুর আরিফুল'কে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। তবে হুজুর আরিফুর কে মেরেছে কিনা এটা আমি দেখিনি। এ বিষয়ে অন্য অন্য শিক্ষার্থীরা ভয়ে মুখ খুলছে না।
শিক্ষক হাফেজ মোঃ হাফিজুর রহমান এর সাক্ষাতকার নেওয়া জন্য বার বার খোঁজে করলেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি মাদ্রাসায় । ফোন বন্ধ আছে। শিক্ষার্থীরা জানান ঘটনার দিন বিকাল থেকে আর মাদ্রাসায় আসছেন হুজুর।
এ বিষায়ে মণিরামপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিকাশ সরকার কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন আমি বিষায়টা মাত্র আপনার কাছ থেকে শুনলাম। বিষয়টি খুবই অন্যায় আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে অবহিত করবো। এবং আমি আরিফুল ইসলাম এর বাবার সাতে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নিব।
কথা হয় আরিফুল ইসলাম এর বাবা আইয়ুব আলীর সাথে তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন আমি আমার ছেলের প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাই।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: