ঝড়-বৃষ্টিতে মণিরামপুরে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি, দুশ্চিন্তায় কৃষক

সমসাময়িক | প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬ ১৮:৪৬

সমসাময়িক
প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬ ১৮:৪৬

ছবি- দৈনিক সমসাময়িক নিউজ।

মোঃ শাহ্ জালাল।। যশোরের মণিরামপুরে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সময়মতো পাকা ধান ঘরে তুলতে না পারায় অনেক ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকদের স্বপ্নভঙ্গের পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু হঠাৎ বৈরি আবহাওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেতের পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও পানিতে ভিজে ধানে চারা গজিয়ে গেছে। আবার শিলা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ধানের শীষ ঝরে পড়ায় উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে ধানের ক্ষতি, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরির কারণে ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে এক কাঠা জমির ধান কাটতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। এছাড়া চারা উৎপাদন, জমি প্রস্তুত, সার, কীটনাশক, সেচ ও পরিচর্যায়ও ব্যাপক খরচ হয়েছে।

কৃষকদের ভাষ্য, ধানের বাজারদর কম থাকায় উৎপাদন খরচ তুলতেই কষ্ট হচ্ছে। খোলা বাজারে প্রতি মণ ধান প্রায় এক হাজার টাকায় বিক্রি হলেও সেই টাকা দিয়ে একজন শ্রমিকের মজুরিও মেটানো যাচ্ছে না।

শ্যামকুড় ইউনিয়নের ঘুঘুরাইল গ্রামের কৃষক আল মামুন বলেন, লাভের আশায় কয়েক বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি এবং অতিরিক্ত খরচের কারণে আগামীতে বোরো চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন ঝাপা ইউনিয়নের কোমলপুর গ্রামের কৃষক আদুল গফুর ও সুভাষ সিংহ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মণিরামপুর উপজেলায় ২৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. মাহমুদা খাতুন বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ে কিছু নিচু এলাকার ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকরা দ্রুত ধান ঘরে তুলতে পারলে উপজেলায় প্রায় ১৬ হাজার ২৬০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।