মোঃ শাহ্ জালাল।। যশোরের মনিরামপুর পৌরসভায় বংশ,দাদা ও দাদীর নাম পরিবর্তন করে ওয়ারেশ সনদ নিয়ে অন্যের তিন একর ১৭ শতক জমি নামজারি চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে পৌরসচিব এবং লাইসেন্স পরিদর্শক ১০ লাখ টাকা ঘূষের বিনিময় প্রকৃত বংশ, দাদা ও দাদির নাম পরিবর্তন করে ওয়ারেশ সনদ দেন। সেই সনদের মাধ্যমে অন্যের তিন একর ১৭ শতক জমি নিজেদের নামে নামজারির আবেদন করেন। বিষয়টি জানজানি হবার পর এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে ভূক্তভোগীরা বুধবার এসিল্যান্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নামজারি আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানাযায়, মনিরামপুর পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের অধিন কামালপুর গ্রামের মৃত আরফান আলীর মোল্যার ছেলে হোসেন আলী মোল্যার ঠটেকামালপুর মৌজায় ৩১৮ নং খতিয়ানে তিন একর ১৭ শতক(তিন’শ ১৭ শতক) জমি রয়েছে। হোসেন আলীর ওয়ারেশ রয়েছেন স্ত্রী আশরুপী বেগম, তিন ছেলে আলী আহমেদ, নুর মোহাম্মদ, তোফায়েল আহমেদ ও একমাত্র মেয়ে শামছুন্নাহার। হোসেন আলীর ছোট ছেলে স্থানীয় মসজিদের ইমাম তোফায়েল আহমেদ জানান, তার বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি তিন ভাই ও এক বোন ভোগ দখল করছেন।
কিন্তু একই গ্রামের মৃত কিয়াম উদ্দিন বিশ^াসের ছেলে মোহর আলী বাদি হয়ে নতুন ওয়ারেশ সনদ অনুযায়ি হোসেন আলী মোল্যার ৩১৮ খতিয়ানের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের তিন একর ১৭ শতক জমি তিনিসহ তার ৫ ভাই-বোনের নামে নামজারির আবেদন করেন গত ৭ জুন তারিখে।
মৃত কিয়াম উদ্দিনের নামে পৌরসভা থেকে ওয়ারেশ সনদ দেওয়া হয়েছে চলতি বছরের ১৯ মে। পৌর সচিব ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তফিকুল আলম স্বাক্ষরিত ওয়ারেশ সনদে উল্লেখ করা মোহর আলীর পিতা কিয়াম উদ্দিন বিশ্বাসের পরিবর্তে কিয়াম উদ্দিন মোল্যা সংযুক্ত কর হয়েছে। অর্থাৎ বংশ পরিবর্তন করা হয়েছে। সে হিসেবে হোসেন আলী মোল্যার স্ত্রী যদি মোহর আলীর দাদি হয়। তাহেল দাদির প্রকৃত নাম হবে আশরুপী বেগম। কিন্তু দাদির নাম পরিবর্তন করে সংযুক্ত করা হয়েছে সুখজান বিবি। মোহর আলীর দাদার নাম পরিবর্তন করে নতুন করে নাম দেওয়া হয়েছে মৃত হোসেন আলী মোল্যা। ওই সনদে ছেলে কিয়াম উদ্দিনের বয়স দেখানো হয়েছে ১৩৬ বছর এবং পিতা হোসেন আলী মোল্যার বয়স দেয়া হয়েছে ১১০ বছর। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মৃত কিয়াম উদ্দিন বিশ^াস মৃত হোসেন আলী মোল্যার কোন ওয়ারেশ নয়। শুধু তাই নয়, হোসেন আলী ছিলেন মোল্যা বংশের এবং কিয়াম উদ্দিন বিশ^াস ছিলেন কারিকর বংশের লোক।
সরেজমিন গিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে আলাপ করে জানাযায়, কিয়াম উদ্দিন ইতিপুর্বে কামালপুর গ্রামের সম্পত্তি বিক্রি করে স্বাধীনতার আগে পরিবার পরিজন নিয়ে ভারতে চলে যান। পরবির্ততে অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামে জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মানের পর বসবাস শুরু করেন। কামালপুর গ্রামের ট্রাক চালক বয়োবৃদ্ধ মকবুল হোসেন জানান, ইতিমধ্যে কিয়াম উদ্দিন বিশ^াস ও তার স্ত্রী ফুলজান বিবির মৃত্যু হয়। কিয়াম উদ্দিনের ওয়ারেশ রয়েছে তিন মেয়ে কুলসুম বিবি, তারা বিবি, আকলিমা খাতুন, দুই ছেলে মোহর আলী ও ইজাহার আলী। এর মধ্যে মেয়ে কুূলসুম বিবি ও তারা বেগমের মৃত্যু হয়েছে।
হোসেন আলী মোল্যার ছোট ছেলে মসজিদের ইমাম তোফায়েল আহমেদ জানান, মৃত কিয়াম উদ্দিনের ছেলে মোহর আলী তাদের জমি ফাকি দিতে বংশ ও দাদা-দাদির নাম পরিবর্তন করে। মেঝো ছেলে নূর মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, তিনি জানতে পেরেছেন পৌর সচিব তফিকুল আলম ও লাইসেন্স পরিদর্শক অমিয় চক্রবর্তি ১০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময় ভূয়া ওয়ারিশ সনদ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে নূর মোহাম্মদ বাদি হয়ে বুধবার সহকারি কমিশনার(ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
সহকারি কমিশনার(ভূমি) মাহির দায়ান আমিন জানান, ইতিমধ্যে মহোর আলীর নামজারীর আবেদন খারিজ করা হয়েছে। তবে বংশ ও দাদা-দাদির নাম পরিবর্তন করে ওয়ারেশ সনদ দেওয়ার ব্যাপারে পৌর সচিব তফিকুল আলম বলেন, চার সদস্যের তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুসারে ওয়ারেশ সনদ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই কমিটির সদস্য স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু মুত্তালিব আলম বলেন, স্থানীয় প্রতিনিধি পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক অমিয় চাক্রবর্তিসহ অন্য সদস্যদের সুপারিশে আমি স্বাক্ষর করেছি মাত্র। অমিয় চক্রবর্তি বলেন, প্রতিবেদনের সময় হয়ত বিষয়টি ভূল হতে পারে। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন জানান, এতোবড় দূর্নীতির বিষয়ে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবেনা। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে দোষিদের বিরু্েদ্ধ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।