06/03/2026 মনিরামপুরে "আমাদের অ্যাম্বুলেন্স" সেবার তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
সমসাময়িক
২ জুন ২০২৬ ০৯:১৮
মেঃ শাহ্ জালাল।। বাংলাদেশর একমাত্র প্রতিষ্ঠান "আমাদের অ্যাম্বুলেন্স" সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মৃতদেহ বহন করে থাকে। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সন্তান মহামারী করোনা যোদ্ধা ডা. মেহেদী হাসান বাবার অসুস্থতায় নিজ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পেয়ে প্রতিজ্ঞা করেন তাঁর নিজ এলাকা যশোরের মণিরামপুরে আর্তমানবতার সেবায় চালু করবেন একটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। আর সেই লক্ষ্যে 'আমাদের অ্যাম্বুলেন্স' নামে একটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছেন তিনি। নিজস্ব অর্থায়নে কেনা এই অ্যাম্বুলেন্সটির নামকরণ করা হয়েছে 'আমাদের অ্যাম্বুলেন্স'। উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিনামূল্যে মণিরামপুর উপজেলা বাসীর লাশ বহনের। গত জুন-২০২৪ খ্রি. থেকে বিনামূল্যে লাশবহন করা হচ্ছে। এর ভিতর ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ৩৫ প্রবাসীর মৃতদেহ এবং খুলনা-যশোর-মণিরামপুর এর আশপাশের এলাকা থেকে ৭১ মৃতদেহ মোট ১০৬টি মৃতদের বহন এবং নামমাত্র মূল্যে সেবা দেওয়া হয়েছে ২৫৩০ রোগীকে। এই সকল তথ্য নিশ্চিত করে আমাদের অ্যাম্বুলেন্স কতৃপক্ষ জানান আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত 'আমাদের অ্যাম্বুলেন্স' সেবা ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আজ পহেলা জুন মনিরামপুর প্রেসক্লাবে "আমাদের অ্যাম্বুলেন্স" এর তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে কেক কাটা ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে আমাদের অ্যাম্বুলেন্স এর পরিচালক সাংবাদিক মোঃ শাহ্ জালাল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মনিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মজনুর রহমান বিশেষ অতিথি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ লিটন, শিক্ষক সাইফুল আলম, আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের পরিচালনা পরিষদ ও প্রেসক্লাবের অন্য অন্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম মজনুর রহমান বলেন আত্ম মানবতার সেবায় আপনাদের অ্যাম্বুলেন্সের বাংলাদেশ ভিতর একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মৃতদেহ বহন করে থাকে। এটা মনিরামপুর বাসীর জন্য বিরাট একটি সৌভাগ্যেরের বিষয় যে আমাদের মনিরামপুরের মানুষের জন্য একজন মানবিক ডাক্তার ও মানবিক মানুষ আছেন। ধনসম্পদ তো বহু মানুষের আছে তবে ডাক্তার মেহেদী হাসান এর মতো মন কয়জনের আছে। এবং আলোচনা এক পর্যায় তিনি মনিরামপুর প্রেসক্লাবকে
আমাদের অ্যাম্বুলেন্স এর মিডিয়া পার্টনার হিসাবে ঘোষণা করেন।
২৪ ঘন্টা "আমাদের অ্যাম্বুলেন্স" সেবার সার্বিক দেখভালের দায়িত্বে থাকা পরিচালক মোঃ শাহ্ জালাল অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বলেন বিশ্বে বাজারে জ্বালানি তেলে মূল্য বৃদ্ধিতে আমরা হিমসিম খেয়ে যাচ্ছি আমরা যখন ২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করি তখল এলপিজির মূল্য ছিল ৫৮ টাকা লিটার। বর্তমানে সেই এলপিজি ৮৯ টাকা লিটার কিনতে হচ্ছে। তবুও আমাদের "মণিরামপুর উপজেলার পৌর শহরের আয়তনের মধ্যে রোগী আনা নেওয়ার জন্যে নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র চারশত টাকা। দশ কিলো অতিরিক্ত যেয়ে রোগী আনা- নেওয়া করলে কিলোমিটার হিসাব করে জ্বালানি খরচ হিসাবে ভাড়া নেওয়া হয়। মণিরামপুর থেকে যশোরে সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া যেখানে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা সেখানে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয় মাত্র এক হাজার টাকা। ঢাকায় নিতে গুণতে হত ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা। সেখানে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয় মাত্র আট হাজার টাকা। আর খুলনার জন্যে নেওয়া হয় তিন হাজার টাকা। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাংলাদেশের ভিতর আমরাই এই প্রথম মৃতদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহন করে থাকি। মণিরামপুর উপজেলারবাসীর মৃতদেহ দেশের যে প্রান্তে থাকুক না কেন আমরা সেটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহন করে থাকি। এমনকি ঢাকা থেকে মৃতদেহ আনার সময় পদ্মাসেতুর টোলসহ ছোটখাটো অনেক স্থানে টোল দেওয়া লাগে সেটাও আমরা বহন করে থাকি।
আমরা এই পর্যন্ত গত জুন-২০২৪ খ্রি. থেকে ৩১শে মে-২০২৬ খ্রি. পর্যন্ত মোট সম্পূর্ণ ফ্রীতে মৃতদেহ বহন করেছি ১০৬ জনের। এর ভিতর ঢাকা থেকে মনিরামপুর আনা হয়েছে ৩৫ প্রবাসীর মৃতদেহ। এবং খুলনা, যশোর, কেশবপুর সহ মনিরামপুর থেকে মনিরামপুর বহন করা হয়েছে ৭১ জনের মৃতদেহ। নামমাত্র জ্বালানি খরচে সেবা দিয়েছি ২৫৩০ জনকে।
পারিবারিক অনুপ্রেরণা থেকেই সবসময় মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করছি উল্লেখ করে 'আমাদের অ্যাম্বুলেন্স' সেবার প্রতিষ্ঠাতা ডা. মেহেদী হাসান বলেন "সাধারণ মানুষের মধ্যে যেভাবে সাড়া জেগেছে তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে 'আমাদের অ্যাম্বুলেন্স' সেবার বহরে ফ্রিজিংসহ আরো তিনটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে আগামীতে।"