মনিরামপুর প্রতিনিধি।। 'কৃষিই সমৃদ্ধি'—এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে এবং "করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস" প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে যশোরের মণিরামপুরে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ফল মেলা-২০২৬। উপজেলার কৃষি অফিস চত্বরে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।
উপজেলা কৃষি অফিসের বাস্তবায়নে আয়োজিত মেলার উদ্বোধন করেন
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন।
সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যও দেন তিনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তবিবুর রহমান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন বলেন, "একটি ফলের গাছ শুধু ফলই দেয় না, দেয় একটি পরিবারের পুষ্টি, পরিবেশের ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবীর আশা। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে পতিত জমি—যেখানে সম্ভব সেখানে ফলের গাছ লাগাতে হবে। উৎপাদনের পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষক সমৃদ্ধ হলে দেশ সমৃদ্ধ হবে, আর কৃষির অগ্রগতিই টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি।"
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথী বলেন, "ফল শুধু একটি খাদ্য নয়, এটি পুষ্টি, সুস্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম উৎস। আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফল উৎপাদন এবং সারা বছর সংরক্ষণের মাধ্যমে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি পুষ্টি নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই করতে কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।"
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মেলা কৃষকদের নতুন জাতের ফল, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, ফল সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা প্রদান করবে, যা কৃষির সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু, মনিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মজনুর রহমান এবং মনিরামপুর পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শাহানাজ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহারিয়া হোসেন, উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ ঘোষ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ—মো. মোজাফফর হোসেন, হাফিজুর রহমান, রবিউল ইসলাম, হীরামন সরকার, রুবিনা আক্তার ও হাসিনা নাহার, কৃষক প্রতিনিধি খলিলুর রহমান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, কৃষক এবং সুধীজন। মেলায় বিভিন্ন জাতের দেশীয় ও বিদেশি ফল, ফলের চারা, আধুনিক ফল চাষ প্রযুক্তি, ফল সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং কৃষি উদ্ভাবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।