10/21/2026 মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধি, স্যালাইনের মজুত শেষের পথে
সমসাময়িক নিউজ
২১ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৮
মোঃ শাহ্ জালাল, মনিরামপুর (যশোর)।। যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুজ্বর, সর্দি-কাশিসহ মৌসুমি রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর হার ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও প্রতিদিন ভর্তি রোগী থাকেন দেড়শর মতো। আউটডোরে সেবা দেওয়া হয় পাঁচ শতাধিক রোগীকে। হঠাৎ রোগী বৃদ্ধির কারণে হাসপাতালে নরমাল ও হার্টম্যান স্যালাইনের (ইনফিউশন) সংকট দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংকটের কারণে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের শুধু একবার হাসপাতাল থেকে স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে রোগীর স্বজনদের বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। রোগী বৃদ্ধির কারণে শয্যা সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দাতেও রোগীদের থাকতে হচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে এ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ওয়ার্ডবয় না থাকায় সাবেক কর্মীদের সামান্য সম্মানী দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ পাওয়া ১১ স্বাস্থ্যকর্মীরও বর্তমানে চাকরি নেই। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় নারী ও শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় মশারি টানিয়ে শুয়ে আছেন উপজেলার আগরহাটি গ্রামের বেগম। তাঁকে নরমাল স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। পারভীনার স্বামী এরশাদ আলী জানান, তিন দিন আগে প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলে পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানান তাঁর স্ত্রীর ডেঙ্গু হয়েছে। কিন্তু কোনো বেড খালি না থাকায় বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শুধু পারভীনা বেগম নয়, গোপালপুর গ্রামের হালিমা বেগম, কাশিপুর গ্রামের রাবেয়া খাতুন, হাজরাকাটি গ্রামের তানজিনা খাতুনসহ অনেক রোগীকে বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। একই চিত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন তিনতলা ভবনেও। কেবিন ও সাধারণ ওয়ার্ডের বেড খালি না থাকায় বারান্দা, সিঁড়ির পাশে রেখে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণ ওয়ার্ডের বারান্দায় চিকিৎসাধীন মোহনপুর গ্রামের ডেঙ্গু আক্রান্ত আশিকুজ্জামান জানান, ভর্তির পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রথম দিন একটি নরমাল স্যালাইন দেওয়া হলেও বাকি সাল্যাইন বাইরের ফার্মেসি থেকে কেনা হচ্ছে। একই কথা জানান, বাজিতপুর গ্রামের ডেঙ্গু আক্রান্ত হুমায়ুন কবির, আমঝুটা গ্রামের আমির হামজা, কাশিপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীসহ অধিকাংশ ভর্তি রোগীর স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আড়াই হাজার নরমাল ও হার্টম্যান স্যালাইনের চাহিদা দেওয়া হলেও মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র ৫০০টি সরবরাহ করা হয়। সপ্তাহখানেক ধরে রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় এগুলোর মজুত শেষের পথে।
সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমা খাতুন ও আসমা বিশ্বাস জানান, হঠাৎ করেই রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নরমাল ও হার্টম্যান স্যালাইনের মজুত শেষের পথে। ফলে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত ভর্তি রোগীদের প্রথম দিন একটা করে স্যালাইন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। তারা জানান, হাসপাতালে এক বছর ধরে নিয়মিত কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড, বারান্দা, টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। কোনো ওয়ার্ডবয় না থাকায় বিশেষ করে জরুরি বিভাগ সামাল দিতেও বেগ পেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অনুপ কুমার বসু জানান, ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমান ভর্তি রোগী রয়েছেন প্রায় দেড়শ। আউটডোরে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় পাঁচ শতাধিক রোগীকে। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ২০ জনকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া শতাধিক ব্যক্তিকে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে নরমাল ও হার্টম্যান স্যালাইনের সংকট রয়েছে বলে জানান তিনি। কর্মী সংকটের বিষয়ে ডা. অনুপ কুমার বসু জানান, ওয়ার্ডবয়ের তিনটি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পাঁচটি পদ থাকলেও অবসরজনিত কারণে এগুলো শূন্য রয়েছে। ফলে অবসরপ্রাপ্ত ওয়ার্ডবয় আকতার হোসেন, আশীষ কুমারসহ তিনজনকে সামান্য সম্মানী দিয়ে জরুরি বিভাগ পরিচালনা করা হচ্ছে। একইভাবে সামান্য সম্মানীর মাধ্যমে চারজনকে দিয়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একতা কোম্পানির ম্যাধমে নিয়োগকৃত ১১ জন আউটসোর্সিংয়ের কর্মীর নিয়োগ ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। ফলে জনবল সংকটে পড়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল জানান, জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের জন্য ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ১৭ অক্টোবর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় স্যালাইনের বিষয়টি উত্থাপন করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বিশেষ ব্যবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে নরমাল ও হার্টম্যান স্যালাইন (ইনফিউশন) সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন।