09/15/2026 মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি তুলে শিক্ষক আটক
সমসাময়িক নিউজ
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৪৬
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি।। যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাইভেট পড়ানোর সময় মোবাইলফোন আপত্তিকর ছবি তুলে ব্লাকমেইল করে একাধীক ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ইতিপূর্বে অভিযোগ প্রমানিত হলে কর্তৃপক্ষ তার সব ক্লাশ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মোটা অংকের টাকা ঘুষের বিনিময় ইকরামুল ইসলাম পুনরায় ক্লাশ নেওয়া শুরু করেন। প্রতিবাদে ছাত্রীরা গতকাল সোমবার ক্লাশ বর্জন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে প্রধান শিক্ষকের অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রায় তিনঘন্টা চেষ্টার পর ছাত্রীদের বিক্ষোভ প্রশমিত করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে তার বাসা থেকে তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি কম্পিউটার জব্দ করেন। এ ঘটনায় সহকারি শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
জানাযায়, খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা ইকরামুল ইসলাম মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে যোগদান করেন ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। অভিযোগ রয়েছে তার কাছে মাসপ্রতি এক হাজার টাকায় প্রাইভেট না পড়লে সেই ছাত্রীকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেন। ফলে বাধ্য হয়েই ছাত্রীরা সহকারি শিক্ষক(ইংরেজি) ইকরামুল ইসলামের কাছে প্রাইভেট পড়তো। ভূক্তভোগী একাধীক ছাত্রীর অভিযোগ ক্লাশ শেষে বিদ্যালয় ভবনের একটি কক্ষে প্রাইভেট পড়ার পর ইকরামুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে প্রথমে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর ছবি ধারন করেন। অভিযোগ রয়েছে পরে ওই ছাত্রীকে মোবাইলের ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে যৌন হয়রানি করে। শুধু অষ্টম শ্রেনির ওই ছাত্রী নয়, এ ধরনের অভিযোগ প্রাইভেট পড়তে আসা অধিকাংশ ছাত্রীর। বিষয়টি জানাজানি হবার পর ওই লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এক অভিভাবক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গতমাসে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাহী অফিসার ওই শিক্ষককে ডেকে তিরষ্কার করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তছির উদ্দিন ইকরামুলকে সব শ্রেণির ক্লাশ নেওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু ছাত্রীদের অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে গত রোববার থেকে ইকরামুল ইসলাম পুনরায় ক্লাশ নেওয়া শুরু করেন। ছাত্রীরা এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রতিবাদ জানিয়ে কোন লাভ হয়নি বলে অনেকেই অভিযোগ করেন।
সোমবার সকাল ১০ টায় পুনরায় পাঠদানের জন্য ক্লাশে গেলে প্রতিবাদে বর্জন করে প্রধান শিক্ষকের অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। এ দিকে বিষয়টি এলাকাবাসী টের পেয়ে বিদ্যালয়ের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করলে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন, সহকারি কমিশনার(ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আবু সাঈদ, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মোজাফ্ফর হোসেন, একাডেমিক সুপারভাইজার মাসুদ হোসেন ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বিদ্যালয়ে যান। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও সম্রাট হোসেন ছাত্রীদের দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতী দিলে প্রায় তিন ঘন্টা পর বিক্ষোভ বন্ধ করে বেলা একটার দিকে তারা ক্লাশে ফেরে।
এ সময় পুলিশ সহকারি শিক্ষক ইকরামুল ইসলামকে আটক করে পৌরশহরে তার ভাড়া বাসা তল্লাশি চালিয়ে তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি কম্পিউটার জব্দ করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তছির উদ্দিন ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ইতিমধ্যে ইকরামুলের সব ক্লাশ নেওয়া বন্ধ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ জানান, আটক শিক্ষক ইকরামুলের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন জানান, থানায় মামলা ছাড়াও শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালককে অনুরোধ করা হয়েছে।