08/02/2026 মনিরামপুর পৌরসভায় বস্তি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ
মোঃ শাহ্ জালাল।।
২ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৩৬
মনিরামপুর (যশোর)।। মনিরামপুর প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় দারিদ্র্য হ্রাসকরণ ও বস্তি উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে লিনিক প্রকল্পের আওতায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দে পাঁচটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব উন্নয়নকাজ বস্তি এলাকায় বাস্তবায়ন করার বিধান থাকলেও অধিকাংশ কাজ করা হচ্ছে অভিজাত ও অন্যান্য এলাকায়। স্ব স্ব এলাকায় নিম্ন আয়ের কমিউনিটি উন্নয়ন কমিটির (লিনিক) সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নের বিধান থাকলেও অভিযোগ রয়েছে কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর জোগসাজসে তা বাস্তবায়ন চলছে। তার ওপর আরসিসি ড্রেন ও ফুটপতের নামে রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে দুই কিস্তির মধ্যে এক কোটি ২১ লাখ টাকা উত্তোলনও করা হয়েছে। অথচ লিনিক কমিটির অধিকাংশ সদস্য এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, মনিরামপুর পৌরসভায় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন দারিদ্র হ্রাসকরণ ও বস্তি উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে লিনিক প্রকল্পে পাঁচটি বস্তি উন্নয়নে বরাদ্দ করা হয় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। পাঁচ প্রকল্পে ধাপে ধাপে মোট পাঁচ কিস্তিতে কাজ সম্পন্নের কথা রয়েছে। পাঁচটি প্রকল্প হলো মহাবেদপুর দাসপাড়া, দুর্গাপুর মহলদারপাড়া, তাহেরপুর মন্ডলপাড়া, জুড়ানপুর ও বিজয়রামপুর।
অভিযোগ রয়েছে, বস্তি উন্নয়নের কথা বলা হলেও অধিকাংশ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে অভিজাত ও বস্তি নেই এমন এলাকায়। আর এসব প্রকল্পে আরসিসি ফুটপাত ও ড্রেন নির্মাণের কথা থাকলেও করা হচ্ছে পাঁচটি ড্রেন ও ১৭ টি আরসিসি রাস্তা। নিয়ম রয়েছে প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন স্থানীয় নিম্নআয়ের কমিউনিটি উন্নয়ন কমিটি বা লিনিক কমিটি। ১১ সদস্য করে পাঁচটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি লিনিক কমিটির চেয়ারপার্সন করা হয়েছে স্থানীয় একজন নারী এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে পৌরসভার একজন কর্মচারীকে। বাকি সদস্য স্থানীয় নারীরা। নিয়ম রয়েছে কমিটির চেয়ারপার্সনের নেতৃত্বে অন্যান্য সদস্যরা বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রি ক্রয় করে বাস্তবায়ন করবেন। তা দেখভাল করবে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, খাতাকলমে লিনিক কমিটি করা হলেও চেয়ারপার্সনসহ অধিকাংশ সদস্য এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানেন না।
তবে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, লিনিক কমিটি থাকলেও নির্মান সামগ্রি ক্রয় করে মূলত: কাজসমূহ বাস্তবায়ন করছেন এ ব্যাপারে জানতে মহাদেবপুর দাসপাড়া প্রকল্পের লিনিক কমিটির চেয়ারপার্সন পূর্নিমা রানীর মোবাইল ফোনে কল করা হয়। কিন্তু রিসিভ করেন তার স্বামী পৌরসভার সুইপার ভগিরত।
তিনি বলেন, কাজ সম্পর্কে আমার স্ত্রী ভাল বলতে পারবে না। তবে প্রকল্পের সব কাজ করছেন ঠিকাদার তপু ভাই। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পৌরসভার কার্যসহকারী তপু ও এসএম আব্দুর রশিদ এ কাজ বাস্তবায়ন করছেন। একই অভিযোগ করেন বিজয়রামপুরের চেয়ারপার্সন বিউটি বেগম, জুড়ানপুরের চেয়ারপার্সন পাপিয়া সুলতানাসহ অন্যান্য কমিটির সদস্যরা।
আবার আরসিসি ফুটপথ ও ড্রেন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আরসিসি ফুটপাতে (রাস্তা) চার ইঞ্চি পাথরের ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি।
বিজয়রামপুর লিনিক কমিটির সদস্য সচিব পৌরসভার উচ্চমান সহকারী শিরিনা খাতুন জানান, তিনি কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে এ কাজ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অন্যদিকে মহাদেবপুর লিনিক কমিটির সদস্য সচিব পৌরসভার কার্যসহকারী (নির্বাহী প্রকৌশলীর আস্থাভাজন) তপু ও এসএম আব্দুর রশিদ বলেন, নিয়ম মেনে যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তম মজুমদার বলেন, কোন প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি ছাড়াই লিনিক প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
তবে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন বলেন, এ কাজের বিল উত্তোলন করতে আমার কোন স্বাক্ষর লাগেনা। তিনি বলেন, কাজ সম্পন্ন করে দুই কিস্তির মধ্যে এক কোটি ২১ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন লিনিক কমিটির যৌথ একাউন্ট থেকে সংশ্লিষ্টরা। তবে কোন অনিয়ম ও দুর্নীতি পেলে অবশ্যই খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।