06/26/2026 মণিরামপুরে ঘের ব্যবসায়ী বিপ্লব অনৈতিক কর্মকান্ডের সময় জনতার হাতে কট, টাকার বিনিময়ে মুক্ত
সমসাময়িক
২৫ জুন ২০২৬ ২২:০৫
মনিরামপুর প্রতিনিধি।। যশোরের মণিরামপুরে ফ্যাসিষ্ট আমলে একাধিক ঘের দখলকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিপ্লব বিশ্বাস ঘেরের এক নিরাপত্তাকর্মীর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের সময় এলাকাবাসীর হাতে মোটরসাইকেলসহ আটক হয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলকে মোটা অংকে তুষ্ট করে তিনি মুক্ত হন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর রোষানল থেকে রক্ষা পেতে তিনি আত্মগোপনে রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার ঝাপা ইউনিয়নের কোমলপুর গ্রামের মালোপাড়ার শিবপদ বিশ্বাসের দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে সুব্রত বিশ্বাস ছিলেন সাবেক সরকারের আমলে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বাবিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি। আর ছোট ছেলে বিপ্লব বিশ্বাস ছিলেন যশোর এমএম কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। অভিযোগ রয়েছে বিগত সরকারের সময় প্রভাব বিস্তার করে বিপ্লব বিস্বাস ঝাপা গ্রামের অষ্ট্রেলীয়া প্রবাসী জাকির হোসেনের বড় ঘেরটি দখল করে নেন|। শুধু তাই নয়, তুহিন নামে এক বিএনপির কর্মীর পুকুরও দখল করেন বিপ্লব বিশ্বাস|। এর পর রাতারাতি তিনি ঘের ব্যবসায়ী বনে যান। পরে তিনি স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতি করতেন। অবশ্য শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সুব্রত বিশ্বাস দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমান।
কিন্তু বিপ্লব বিশ্বাসের এখন রয়েছে বিভিন্ন স্থানে মোট ছয়টি ঘের। এর মধ্যে লক্ষনপুর গ্রামে রয়েছে তিনটি|। লক্ষনপুরে ওই ঘেরের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হয় স্থানীয় মুসলিম এক যুবককে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ওই নিরাপত্তাকর্মীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয় বিপ্লব বিশ্বাস। অবশ্য বিষয়টি জানাজানি হলে ওই নিরাপত্তাকর্মীর সংসারে অশান্তি দেখা দেয়। ফলে ওই নিরাপত্তা কর্মীর স্ত্রী সম্প্রতি উপজেলার পাড়িয়ালী গ্রামে পিতার বাড়িতে চলে যান|। এ দিকে উপজেলা জাতীয়পার্টি থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করা সভাপতি এমএ হালিমের সাথে পার্টনারশিপে পাড়িয়ালী গ্রামের পাশে বিল শালিকায় জমি লিজ নিয়ে নতুন করে দুইটি ঘের নির্মান করেন বিপ্লব বিশ্বাস। এ সুবাদে বিপ্লব বিশ্বাস ওই নারীর সাথে প্রতিনিয়ত দেখাসাক্ষাত করতেন।
অভিযোগ রয়েছে বুধবার বিকেল সাড়ে পঁচটার দিকে পাড়িয়ালী গ্রামে একটি কক্ষে ওই নারীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের সময় এলাকাবাসী মোটরসাইকেলসহ হাতেনাতে আটক করেন বিপ্লব বিশ্বাসকে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্রকে মোটা অংকের টাকায় তুষ্ট করে বিপ্লব মুক্ত হয়। পদত্যাগকরা জাতীয়পার্টির সভাপতি এমএ হালিম বলেন, ঘটনার পর থেকে বিপ্লব আমার ফোন রিসিভ করছেননা। এ দিকে রাজগঞ্জ বাজারে বিপ্লবের রয়েছে ভাই ভাই মৎস্য আড়ত এ ঘটনার পর থেকে জনরোষ থেকে রক্ষা পেতে তিনি আড়ত বন্দ করে আত্মগোপনে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলেও তার আড়ত বন্দ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে জানতে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও বিপ্লব বিশ্বাস রিসিভ করেননি।