01/02/2026 যশোরে ৭১ প্রার্থীর মধ্যে জামায়াত সহ সাতজনের মনোনয়নপত্র বাতিল
সমসাময়িক
১ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:২৪
যশোর:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের দুটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনেই যশোর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদসহ মোট সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে চারজন প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে তাদের মনোনয়নপত্রে থাকা তথ্য হালনাগাদের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে যশোর-১ (শার্শা) ও যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী যশোর-১ আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন বাতিল হয়। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান আলী গোলদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
যশোর-১ আসনে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি থাকায় তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। তারা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল। তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মুহাম্মদ আজীজুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বক্তিয়ার রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
অপরদিকে যশোর-২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) আসনে মোট ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ, বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। একই আসনে দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের মনোনয়নপত্র এক শতাংশ ভোটারের তথ্য সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে বাতিল হয়।
এই আসনে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর, টিআইএন ও ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। তারা হলেন বিএনএফ মনোনীত প্রার্থী শামসুল হক এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ফিরোজ শাহ। সংশ্লিষ্ট তথ্য হালনাগাদের জন্য তাদের সময় দেওয়া হয়েছে।
যশোর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ’র ইমরান খান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির রিপন মাহমুদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, বৃহস্পতিবার যশোরের দুটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে জেলার বাকি চারটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যেই যশোরের ছয়টি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল প্রসঙ্গে যশোর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত বিষয়টি অনেক আগের হলেও ইতোমধ্যে তা নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও তিনি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আপিল করবেন এবং আপিলের মাধ্যমে মনোনয়ন ফিরে পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০ জন, জামায়াতে ইসলামী থেকে ৬ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ১০ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ৬ জন, জাতীয় পার্টি থেকে ৬ জন, বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন করে এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে দুইজন প্রার্থী রয়েছেন। এর আগে ছয়টি আসনে মোট ৭১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।