04/04/2025 স্বীকৃতির আলোকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি এখন সময়ের দাবী
স্বীকৃতির আলোকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি এখন সময়ের দাবী
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৭:১৪
পি কে রায়, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি।। ২০০৬ সাল থেকে শিক্ষকেরা এমপিওভুক্তির দাবীতে, মানবিক আবেদন নিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে ধীরে ধীরে ঢাকার রাজপথে আসেন।
আন্দোলনের কারনে ২০১০ সালে ১৬১০ টি প্রতিষ্ঠান সরকার এমপিওভুক্ত করেন। সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না করায় শিক্ষকরা সংক্ষুব্ধ হয়ে যান তখন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, "এমপিওভুক্তি চলমান প্রক্রিয়া প্রতি বাজেটের মধ্যেই বাঁকী প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত হবে", বলে আশ্বস্ত করেন।
কিন্তু বছরের বছর পার হয়ে গেলেও দেখা মিলেনি কোনো এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া। উপায় না দেখে, শিক্ষকেরা আবারও মানবিক দাবী নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন।
আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও, তা কখনো বাস্তবায়ন করেননি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো (ক) ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরের শুরু হওয়া আন্দোলনের একপর্যায়ে ৪ অক্টোবরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তৎকালীন এপি এস- সাইফুজ্জামান শিখরের মুঠোফোনে সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদককে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিলে আন্দোলন স্থগিত হয়। এরপর ৬ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে ১৩.৩৬.০০.০৬.২০১২-৪৯৮ স্মারকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের সম্মতি জানিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব-১ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম একটি চিঠি প্রেরণ করেন। (খ) ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকায় আন্দোলন চলাকালীন সময়ে মহাজোটের শরিক দল বি এন এফ'র প্রধান তৎকালীন এম পি আবুল কালাম আজাদ মিডিয়ার উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিয়ে বলেন "আগামী ২০১৬ সালে সকল স্বীকৃতি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত ঘোষণা করা হবে"।(গ) ২০১৮ সালে আন্দোলন চলাকালীন সময়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর ভারপ্রাপ্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শিক্ষকদের দাবী মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন এসময় শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন এবং পুলিশের ডি এমপি কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।
অপ্রিয় হলেও সত্য যে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতি গুলো নিয়ে শুধু সময় ক্ষেপনই হয়েছে কোনোদিনও তা আলোর মুখ দেখেনি।
পক্ষান্তরে শিক্ষদের উপরে অমানবিক নির্যাতন করতে লেলিয়ে দিয়েছে পুলিশ বাহিনীকে। লাঠি, রাবার বুলেট, প্রিপার স্প্রে, কাদানী গ্যাসসহ আরো অনেক যন্ত্র অস্ত্র, নিক্ষেপ করে রাজপথে শিক্ষকদের উপরে হমলা করে, তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে কুকুর বিড়ালের মতো পিটিয়ে নিয়ে বেড়িয়েছেন ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেব, কৌশলে শিক্ষকদের ফেলে দেন, নীতিমালার ফাঁদে।শিক্ষকরা নীতিমালার প্রতি সম্মান জানান এবং বলেন স্বীকৃতিই একমাত্র এমপিওভুক্তির মানদণ্ড, এই বলে এমপিওভুক্তির দাবী নিয়ে আবারও মাঠে নামেন।
আন্দোলন যখন তুঙ্গে, ঠিক তখন প্রায় ৯ বছর পর ২০১৮ সালে, ভুলেভরা নীতিমালার আলোকে এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ করেন। এরপরে আবারও নীতিমালা সংশোধনের ফাঁদে শিক্ষকেরা আঁটকে পরেন।
উপরের আলোচনায় স্পষ্ট বুঝা যায়, ২০০৬ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত,স্বীকৃতির আলোকে ১৭ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্তির জন্য সরকারের নিকট, শিক্ষকেরা তাদের শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজপথসহ বিভিন্ন ভাবে মানবিক আবেদন করে আসছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের সেই দাবী বারবার প্রত্যাক্ষান করা হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অথচ ইতিপূর্বে সরকার স্বীকৃতির আলোকেই এমপিওভুক্ত করে থাকতেন লক্ষ্য করলে দেখা যায় ২০১০ সালে এমপিওভুক্ততে নীতিমালার তোয়াক্কা করা হয় নাই। যদিও ২০১৮ সালের ভুলে ভরা নীতিমালার আলোকে, এমপিওভুক্ত ঘোষনা করা হয় এবং ২০২১ সালে অক্টোবরে আবারও আবেদন নেওয়া হয়েছে। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় পর্যায়ক্রমে ২০১৮ সালের এমপিওভুক্তির পর বিশেষ প্রক্রিয়ায় আরও কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে, বিভিন্ন সময়ে কতৃপক্ষ, সেই স্বীকৃতির আলোকেই এমপিওভুক্ত করা হয়েছে অবশ্য শিক্ষকরা এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদই জানিয়েছেন।কিন্তু সরকারের জারিকৃত নীতিমালায় যোগ্য হওয়া হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর অপেক্ষায় আছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে কাউকে স্বীকৃতির আলোকে বিশেষভাবে এমপিওভুক্ত করা হবে আবার কাউকে নীতিমালার ফাঁদে ফেলে দীর্ঘদিন আটকে রাখা হবে কেনো? কেনো এভাবে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে?
প্রাপ্য শ্রমের মূল্য না দিয়ে ননএমপিও শিক্ষকদের দ্বারা রাষ্ট্রীয় সবকিছু বাস্তবায়ন করে নেওয়া হচ্ছে? এটা অত্যন্ত অমানবিক, অযৌক্তিক! কারণ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের প্রয়োজনে নির্দিষ্ট নিয়মের আলোকে, সরকারই স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং শিক্ষকেরা যথারীতি নিয়মে, শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে শিক্ষকতা করে আসছেন। কেউ বেতন ভুক্ত হচ্ছেন
কেউ দিনের পর দিন বেতনে অধরাই থেকে যাচ্ছেন।
শিক্ষকদের মানবিক দাবী ছিল স্বীকৃতির আলোকে সকল প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি। যেহেতু বর্তমানে সরকার স্বীকৃতির আলোকে ইতিমধ্যেই পর্যায়ক্রমে কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছেন, সুতরাং নীতিমালা দিয়ে নয়, স্বীকৃতির আলোকে প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করা এখন শুধু সময়ের দাবী।
শিক্ষকেরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট, বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্বীকৃতির আলোকে সকল চলমান প্রতিষ্ঠানগুলো মুজিব শতবর্ষে এমপিওভুক্ত করে শিক্ষাবান্ধব সরকারের আরও একটি মাইলফলক সৃষ্টির দাবী জানান।